মাছ না পেয়ে ছিপে কামড়াচ্ছেন খুলনার পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ মোশাররফ হোসেন। খুলনা গেজেটে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় তার অধীনস্থ একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সরাসরি দায়ী করছেন। ফোন করে এবং প্রকাশ্যে বেশ কয়েকজনকে হুমকি দেওয়ারও তথ্য পাওয়া গেছে। নিজের অপকর্ম ঢাকতে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে এ প্রতিবেদককে নানা প্রকার হয়রানি করারও ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। তার সহযোগীরাও চালাচ্ছেন নানা অপতৎপরতা। ডেঙ্গুর ভয়াবহতা নিয়ে খুলনার সর্বত্র ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। অথচ পরিচালক পরিদর্শনের নামে প্রমোদ ভ্রমণে ঘুরে আসলেন গত সপ্তাহে সুন্দরবন। অপরদিকে বিধিবহির্ভূতভাবে আউটসোর্সিং কর্মচারীকে বদলি করে বেকায়দায় পড়েছেন পরিচালক। আদেশ সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছেন। পরিচালকের দপ্তরের একাধিক বদলি কর্মচারীর অভিযোগ ও সরেজমিন গিয়ে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
একাধিক সূত্রের দাবি পরিচালকের যোগদানের পর থেকে এ পর্যন্ত সকল প্রকার অনিয়ম, দুর্নীতিসহ বহু অপকর্ম নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন খুলনা গেজেটসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় তিনি বেজায় খেপেছেন। তার অধীনস্থ একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সরাসরি ডেকে নিয়ে হুমকিও দিয়েছেন বলে সূত্রটির দাবি। এমনকি অনেককে মোবাইল ফোনেও হুমকি দিয়েছেন বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।
ওই দপ্তরের একটি সূত্র জানায়, মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে এখন শুরু করেছেন ষড়যন্ত্র। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ প্রতিবেদককে জীবনহানিসহ বেশ কিছু অপকৌশল নিয়ে অপতৎপরতা শুরু করেছেন। তার দপ্তরে এ নিয়ে একাধিক বৈঠকও বসেছে বলে ওই সূত্রটি নিশ্চিত করেছেন।
ডেঙ্গুর প্রকোপে সারা দেশের ন্যায় খুলনা এখন নাকাল। সকল হাসপাতাল, ক্লিনিকসহ অধিকাংশ বাড়িতে ডেঙ্গু রোগী। এসব ব্যাপারে তেমন কোনো মাথাব্যথা নেই পরিচালকের। তিনি বরং গত সপ্তাহে সুন্দরবন ভ্রমণ করে আসলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবিও পোস্ট করেছেন শাহারিয়ার আলম রাসেল। ওই ছবিতে দেখানো হয়েছে তারা অবস্থান করছেন ম্যানগ্রোভ টাওয়ার, আলিবান্দা, সুন্দরবন।
এদিকে যোগদানের ৪ দিনের মাথায় বিধিবহির্ভূত ভাবে আউটসোর্সিং-এ কর্মরত নিরাপত্তা প্রহরী মোঃ সাগর হাওলাদারকে ৮১০(৭) নম্বর আদেশে পরিচালক (স্বাস্থ্য) এর দপ্তর থেকে মেডিকেল সাব-ডিপোতে বদলি করেন এবং ওই জায়গার শাওন কুমার বিশ্বাসকে তার দপ্তরে বদলির আদেশ দেন। আউটসোর্সিংয়ের কর্মী, ঠিকাদারের নিয়োগকৃত। চিঠি দিয়ে বদলি করার ক্ষমতা না থাকায় ওই চিঠিটি অফিস থেকে সরিয়ে ফেলেছেন বলে সূত্রটি দাবি করেছেন।
খুলনা পরিচালক দপ্তরের একটি সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কথা বলে তার দপ্তরের এক মহিলা কর্মচারীকে পদোন্নতি দেওয়ার ভুয়া গল্প তৈরি করায় তাকে তিরস্কার করেছেন। এছাড়া তার নানা অনিয়ম নিয়ে মোবাইল ফোনে তাকে সংশোধন হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি দম্ভোক্তির সুরে বলছেন, ‘আমি যে কয়দিন এ চেয়ারে আছি আমার কাজ অব্যাহত রাখা হবে।’ এদিকে তার অপকর্ম নিয়ে এখন তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের মধ্যেও অসন্তোষ শুরু হয়েছে। তার অপকর্মের হোতা কথিত ভাগনের সাথে একজনের বাগ্বিতণ্ডা হয়েছে তার অফিস কক্ষে।
মূলত বদলির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের শুরু। এদিকে যশোর জেলায় বদলি করা এক কর্মকর্তার সাথে তার ভাগ্নের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসায় সিন্ডিকেটে ফাটল আরোও জোরালো হয়েছে। তাছাড়া মাত্রাতিরিক্ত ঘুষ লেনদেন হলেও চাহিদা অনুযায়ী সিন্ডিকেট সদস্যরা সঠিক ভাগ না পাওয়ায় তাদের মধ্যে এখন চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে বেশ কয়েকটি দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। পরিচালকের অনিয়ম নিয়ে খোদ সরকারি দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা উচ্চ পর্যায়ে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন বলে বেশ কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
খুলনা গেজেট/এনএম

